সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শেয়ার বাজারে ইমোশনের কারণে ভুল ও তার প্রতিকার..


বিভিন্ন ধরনের ইমোশন আমাদের জীবনকে করেছে আরো উপভোগ্যময়। ইমোশন ছাড়া জীবন লবণ ছাড়া তরকারীর মত,তবে এই ইমোশন অর্থাৎ আবেগের কারণে আমাদের জীবনে নেমে আসে অনেক বাধা ,হয়ে থাকে অনেক ভুল ।তাই ইমোশন কন্ট্রোল করা জানতে হবে ,যদিও মানুষের বয়স এর সাথে সাথে ইমোশোন কিছুটা তার আয়ত্তে চলে আসে,কিন্তু সেটা সমাধান না,কারণ বাংলা একটা প্রবাদ আছে কেউ দেখে শিখে আর কেউ ঠকে শিখে ,তো যারা বয়সের সাথে সাথে ইমোশন কন্ট্রোল হয়ে যাবে এই আশায় থাকে তারা ঠকে শিখে,এই শিখার মধ্যেও ভাগ আছে ,কেউ মনে রাখতে পারে আর কেউ মনে রাখতে পারে না।তাই প্রতিনিয়ত নিজেকে নিয়ন্ত্রন আর নিয়মের মধ্যে থেকে ইমোশনকে কন্ট্রোল করা উচিত।
মনোবিৎদের মতে অধিক ক্রোধে অথবা, অধিক খুশিতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বেশিভাব সময় ভুল হয়ে থাকে।তাই অধিক ক্রোধে অথবা, অধিক খুশিতে  সিদ্ধান্ত না নেওয়া উত্তম,প্রতিটি ঘটনাকে সব সময় নিজের দৃষ্টিকোন থেকে চিন্তা করলে আবেগ অনেক বেশি কাজ করে, তাই ঘটে যাওয়া ঘটনা বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে অনেকাংশে আবেগকে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। এ তো ছিল জীবনের ঘটে যাওয়া সকল ঘটনায় আবেগকে নিয়ন্রন করার চেষ্টা মাত্র, কিন্তু আজ আমরা একটা ক্ষেত্রকে একটু বেশিই গুরুত্ব দিব,তা হল পুজিবাজার।

আবেগকে নিয়ন্ত্রন করতে হলে ,প্রথম যে কাজ করতে হবে তা হল ,জ্ঞান অর্জন বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের গড় আয়ু ৬৫ বছরের জীবনে সবকিছু অভিজ্ঞতা দ্বারা মোকাবেলা করা সম্ভব না, মানুষ ইতিহাস জানার মাধ্যমে তাদের ভুলগুলো পুনুরাবৃত্তি না করে দূরন্ত গতিতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।তাই ঠিক সে ভাবেই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে  জ্ঞান বৃদ্ধির মাধ্যমে, ভুলের জায়গাগুলোকে সনাক্ত করে এগিয়ে গেলে আবেগ দ্বারা প্রাভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
পুজি বাজারে সঠিক সময় বুঝে বাই সেল করাই অনেক কষ্ট্সাধ্য কাজ ,তার সাথে আবেগ যুক্ত হয়ে সঠিক সময়ে বাই সেল করে লাভ ঘরে তোলা যেন অসম্ভব এ পরিনিত হয়েছে।পুজিবাজারে আবেগকে দূরে রাখার জন্যজ্ঞান অর্জনের পর,সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা দরকার তা হচ্ছে অভিজ্ঞতা,একজন নতুন বিনিয়োগকারী যতটা না আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হবে তারচেয়ে কম,আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হবে একজন অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী ।কারণ মানুষের আন্তবিশ্বাস তার আবেগকে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম।আমি কি করতেছি এই সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে আবেগ এবং পারিপার্শ্বিক বিষয় কম প্রভাবিত করবে।
শেয়ার বাজারে আবেগকে কন্ট্রোল করতে অভিজ্ঞতার পর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পরিকল্পনা।এখন পরিকল্পনা বলতে শুধু সম্ভাব্য ভালটা চিন্তা করে এগিয়ে গেলে হবে না,যখন দৃশ্যপট পরিকল্পনার বাহিরে চলে যাবে , তখনই আপনাকে আবেগ ভুল সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করবে,এই জন্য আবেগকে নিয়ন্ত্রন করতে হলে অবশ্যই আগে থেকেই পরিকল্পনা করে মাঠে নামতে হবে ,শুধু প্লান A নিয়ে মাঠে নামলে ভুল করার সম্ভাবনা থেকেই যায়,তাই প্লান B প্লান C ঠিক করেই মাঠে নামতে হবে ।সর্বোচ্চ খারাপের জন্য পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েই বিনিয়োগ করা উচিত।
আবেগের মধ্যে যে বিষয়টা বেশি কাজ করে তা হল ভয়,শেয়া্রের দাম অল্প একটু বাড়ার পর ভয় কাজ করে, এই বুঝি দাম কমে যাবে ,আর সেই ভয়ে শেয়ার বিক্রি করার পর দেখা যায় হু হু করে দাম বাড়ছে, তাই এই ভয়কে দূর করার জন্য নিজের সম্পর্কে জানতে হবে কারণ শেয়ার বাজার একটি ঝুকিপূর্ণ বাজার তাই কত টুকু ,ঝুকি আপনি নিবেন তার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে,কম ঝুকি নিতে চাইলে ফান্ডামেন্টাল শেয়ার ,যারা বছর শেষে ভাল ডেভিডেন্ড দেয় সেই সব শেয়ারে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে।ঝুকি কম নিয়ে লাভ বেশি করতে চাইলে লস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
কিছু বিশেষ বিশেষ সময় ইমোশন কন্ট্রোল রাখা কঠিন হয়ে পরে যেমন,খুব কষ্টে অর্জিত এবং মূল্যবান বা পছন্দের কিছু হারালে ইমোশন কন্ট্রোল রাখা সম্ভব হয় না ,আর এই সময় নিজেকে শান্ত রাখার জন্য বাংলার এক প্রাচীন বাউল বলেছিল "যা হারিয়ে ফেলেছি তা আমার না" এই ভাবে চিন্তা করলে ঠিক ওই মূহুর্তে আবেগ তাড়িত হওয়া থেকে নিজেকে কিছুটা রক্ষা করা যেতে পারে, যেহেতু হারিয়ে ফেলা জিনিষ ওই সময় আর পাওয়ার সম্ভব না,সুতরাং মানসিক প্রশান্তির জন্য এই ভাবে চিন্তা করে সেই জিনিসের মায়া ত্যাগ করে নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করাই উত্তম।

এছাড়াও শেয়ার বাজারে ইমোশনের কারণে আরো ৫টি ভুল ও প্রতিকার নিয়ে দেখতে পারেন আমাদের ভিডিওটি

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভাল কোম্পানি কত পার্সেন্ট ডিভিডেন্ড দিলে লাভ হবে?

লং ট্রাম বিনিয়োগকারীরা ভাল শেয়ার চেনার জন্য, কোম্পানীর ডেভিডেন্ড ইল্ড দেখে থাকেন।যে সমস্ত শেয়ারের  ডেভিডেন্ড ইল্ড ভাল সেই সব শেয়ার লং ট্রাম বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশি আকর্ষণীয় হয়ে থাকে।তাই আজকে আমরা  ডেভিডেন্ড   কি ? এবং  কত টাকায় কত পার্সেন্ট ডেভিডেন্ড দিলে ভাল হবে ,অর্থ্যাথ  ডেভিডেন্ড ইল্ড বাহির করার মাধ্যমে কি ভাবে ভাল শেয়ার চিনা যায়, তাই নিয়ে আলোচনা করব। ডিভিডেন্ড ( Dividend ) অর্থ লভ্যাংশ। একটি কোম্পানির তার মুনাফার যে অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করে থাকে তা-ই লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড। কখনো কখনো রিজার্ভ বা সংরক্ষিত তহবিল থেকেও লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়। লভ্যাংশ নগদ টাকা বা স্টক (শেয়ার) অথবা উভয় আকারে হতে পারে। লভ্যাংশ সাধারণত শতাংশের হিসাবে প্রকাশ করা হয়। ডিভিডেন্ড সব সময় প্রদান করা হয় ফেস ভ্যালুর উপর ভিত্তি করে। যেমন ১০% ডিভিডেন্ড দিলে প্রতি শেয়ারে ডিভিডেন্ড হবে ১ টাকা। কারন ফেস ভ্যালু ১০ টাকা এবং ১০ টাকার ১০% হচ্ছে ১ টাকা। যদিও শেয়ারের ফেস ভ্যালু ১০ টাকা কিন্তু মার্কেটে শেয়ারের দাম ১০ টাকার থেকে বেশি বা কম হতে পারে। ধরা যাক ১০% হারে ডিভিডেন্ড দেওয়া কোম্পানি...

DSE Mobile App কেন ব্যবহার করবেন?

আমাদের মধ্যে দুই শ্রেণীর মানুষ আছে । এক ,যারা টেকনোলজি ব্যবহার করে অভ্যস্ত,দুই যারা টেকনোলজি ব্যবহার করতে সবসময় কিছুটা অনাগ্রহ প্রকাশ করে, না জানার কারণে এখন যারা টেকনোলজি ব্যবহার করে তাদের মাঝে আবার দুই ভাগ আছে ।এক ভাগ “চলছে জীবন যেমন ,চলুক তবে তেমন” এ বিশ্বাসী।তারা টেকনোলজি ব্যবহার করতে জানলেও নতুন নিয়মে যেতে রাজি না কারণ "আগের নিয়মেই তো ভাল হচ্ছে ,নতুন কিছুর কি দরকার। "আর এক ভাগ আছে তাদের কেউ এসে হাতে তুলে না দিলে শিখবে না। এরা হচ্ছে আগে “সবাই করুক এই পার্টির লোক”।তাহলে দেখা যাচ্ছে খুব কম মানুষই আছে যারা নিজে নিজে নতুনকে স্বাগত জানাবে ।আর তাই তো এখানে বিজয়ী হওয়ার সংখ্যাও কম হয়ে থাকে।   DSE Mobile App কেন ব্যবহার করবেন? ব্রোকারেজ হাউজের ট্রেডাররাই আপনার লস বা প্ল্যান নষ্ট করার অন্যতম কারিগরঃ শেয়ার বাজারে এন্ট্রি নেওয়ার শুরুতে যখন আপনি অল্প অল্প করে শেয়ার কিনার অর্ডার দিবেন তখন হয়ত ব্রোকারেজ হাউজের ট্রেডাররা  অনীহা প্রকাশ করবে আপনাকে নানা বুদ্ধি দিতে চাইবে, আপনার অর্ডারগুলো অনেক দেরিতে কার্যকর হবে অনেক সময় মিসও হয়ে যেতে পারে।মনে রাখবেন ব্রোকারেজ হাউজের ট্রেড...

টেকনিক্যাল এনালাইসিসের অতীত ,বর্তমান ,ভবিষ্যত...

একটি শেয়ারের অতীতের কিছু Price Movement-এর উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এর মূল্য কেমন হতে পারে, তা খুঁজে বের করার পদ্ধতিকেই বলে টেকনিক্যাল এনালাইসিস। সংক্ষেপে বলা যায়, একটি কোম্পানির শেয়ার অতীতে কোন সময় কোথায় ছিল, বর্তমানে শেয়ারের গতি কোনদিকে, ঠিক কোন অবস্থায় গিয়ে শেয়ারটি ক্রয়-বিক্রয় করা নিরাপদ আর অধিক লাভজনক ,এসব বিষয় চার্টের মাধ্যমে খুঁজে বের করাই হল টেকনিক্যাল এনালাইসিস। এনালাইসিস তিন ধরনের হয়ে থকে। ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস,টেকনিক্যাল এনালাইসি্‌স, ইমোশনাল বা নিউজ এনালাইসিস।আজকে আমরা টেকনিক্যাল এনালাইসিসের অতীত বর্তমান ওভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করব। মনে রাখতে হবে, যে কোন শেয়ারে  লাভবান হতে হলে টেকনিক্যাল এনালাইসিস, ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস, ইমোশনাল বা নিউজ এনালাইসিস এই তিনদিকেই সবসময় নজর রাখতে হবে।  টেকনিক্যাল এনালাইসিসের উৎপত্তি : টেকনিক্যাল এনালাইসিসের মূলনীতিগুলো অনেক বছরের পুরোনো। ১৭শ শতাব্দীতে ডাচ্ শেয়ার মার্কেটে জোসেফ ডি লা ভেগা’ প্রথম কিছুটা টেকনিক্যাল এনালাইসিস শুরু করেন। তারপর, জাপানে ১৮শ শতকের প্রথম দিকে হোমা মুনিহিসা একজন রাইস ট্রেডার যিনি ক্যান্ডেলস্টিক টেকনিক’ (Can...